মসজিদ পরিচিতি : মরক্কোর হাসান আল-থানি মসজিদ - history bangla24

মসজিদ পরিচিতি : মরক্কোর হাসান আল-থানি মসজিদ

Share This


মরক্কোর ক্যাসাব্লাঙ্কায় অবস্থিত মসজিদ “হাসান আল-থানি” “দ্বিতীয় হাসান মসজিদ”/ “মাসজেদ আল-হাসান আল-থানি” নামেও পরিচিত। মসজিদটি বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বিশিষ্ট মসজিদ যা মুসলিম বিশ্বের একেবারে পশ্চিম প্রন্তে অবস্থিত।
মসজিদটির তিন ভাগের এক ভাগ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত, দুরের কেন জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয় ঢেউয়ের বুকে মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছে পানির উপর।
মসজিদটিতে ঝড়-বৃষ্টি ছাড়া মসজিদটির ছাদ তিন মিনিট পর পর সক্রিয়ভাবে খুলে যায় আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করারা জন্য, তেত্ত্রিশ ফুট সামুদ্রিক ঢেউ সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে মসজিদটির, নির্মাণ কৌশলের গুনের কারনে মসজিদের ভেতর থেকে সুমদ্রের কোন গর্জন শোনা যায় না।
বাইশ দশমিক চব্বিশ একর জায়গার উপর অবস্থিত মসজিদটি, মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গে রয়েছে সভাকক্ষ, লাইব্রেরী, কোরআন শিক্ষালয় ও অজুখানা।
আড়াই হাজার পিলারের উপর অবস্থিত মসজিদটির ভেতরে পুরোটায় টাইলস বসানো, মসজিদ এলাকার চার পাস সাজানে হয়েছে একশ চব্বিশটি ঝর্ণা ও পঞ্চাশটি ক্রিস্টালের ঝার বাতি দিয়ে, কোথাও কোথাও স্বর্ণের পাতও ব্যাবহার হয়েছে।
মসজিদটির মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা পয়ষট্টি মিটার এবং মসজিদটির একমাত্র মিনারটির উচ্চতা দুইশ দশ মিটার যা প্রায় ষাট তলা ভবনের সমান। মসজিদটির মুসল্লি ধারণ ক্ষমতা প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার।
মসজিদটির মিনারের চুড়ায় একটি লেজার বিম অবস্থিত যা থেকে কাবাঘরের দিক বরাবর সর্বদা এক গুচ্ছ আলোক রশ্মি বিচারিত হতে থাকে, ত্রিশ কিলোমিটার দূর থেকে লেজার রশ্মি স্পষ্ট দেখা যায়।
১৯৯৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটি নির্মাণ করেন মরোক্কার রাজা দ্বিতীয় হাসান। তার নামানুসারেই মসজিদটির এই নামকরণ করা হয়। ফরাসি স্থপতি Michel Pinseau-র নকশায় মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৬ সালে।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages